দ্বীনের বিধান মানা না মানা — আসলে আমরা কাকে ধোঁকা দিচ্ছি?

0
দ্বীনের বিধান মানা না মানা — আসলে আমরা কাকে ধোঁকা দিচ্ছি?
ভাবনা • ধার্মিকতা

দ্বীনের বিধান মানা না মানা — আসলে আমরা কাকে ধোঁকা দিচ্ছি?

“খালি হুকুম আর হুকুম”—এমন আপত্তির মধ্যে লুকিয়ে থাকে অনেকের অন্তরের অস্বস্তি। কিন্তু প্রশ্ন হলো: এই আপত্তি কি দ্বীনকে বোঝায়, নাকি নিজের অনাচরণকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা?

“ছেলে-মেয়ে কথা বলা যাবে না কেন? মন ফ্রেশ থাকলেই তো হলো।”

“গান শোনা যাবে না কেন? গান শুনলে আমার হতাশা কেটে যায়।”

“সুদ খাওয়া যাবে না? মানে কি! আমি তো কারো ক্ষতি করছি না।”

“নামায পড়তে হবে? পাঁচ ওয়াক্ত! তাও আবার মসজিদে গিয়ে! ঘরেই তো পড়া যায়।”

“হিজাব পড়তে হবে? তাও আবার ঢিলেঢালা? আরবের মেয়েরা তো লু-হাওয়া থেকে বাঁচতে হিজাব পড়তো। আমরা কেন পড়ব?”

“মেয়েদের ঘরে থাকা উত্তম—এটা ফালতু কথা। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ—সব জায়গায় মেয়েদের দরকার। ঘরে থাকলে উন্নতি হবে কিভাবে?”

তারপর দীর্ঘশ্বাস—
“খালি হুকুম আর হুকুম। অসহ্য! এসব সেকেলে বিধান।”

ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেছেন: “সুবহানাল্লাহ! কত মানুষ ইসলামের বিধান নিয়ে বিব্রত হয়। মনে মনে আশা করে, যদি এগুলোর কোনো অস্তিত্বই না থাকতো। এই বিধানগুলো তাদের অন্তর জ্বালিয়ে দেয়, শ্বাসরুদ্ধ করে তোলে।”

— ইবনুল কায়্যিম (রহ.)

শেষ কবে আল্লাহর কালাম নিয়ে বসেছেন, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। জুমা ছাড়া শেষ কবে মসজিদে গিয়েছেন—হয়তো নিজেই ভুলে গেছেন। দুনিয়ার বিষয়ে যে সতর্ক প্রত্যয়, আখিরাতের ব্যাপারেও কি ততটাই সিরিয়াস?

প্রচলিত বক্তব্যগুলো

“Don’t judge me, only Allah can judge.” — “তোমার দ্বীন তোমার, আমার দ্বীন আমার।” — “সমস্ত কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।” — “আল্লাহ আমার অন্তর দেখবেন।”

এসব কথাই বলা হয়—সবই আংশিক সত্য। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হল:

আপনি কি নিশ্চিত যে আপনার বুঝে যাওয়া দ্বীনই আল্লাহর দ্বীন?

একটা দ্বীন যেখানে—

  • কাফিরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা যাবে, মুসলিমের মৃত্যুতে নীরব থাকা যাবে “হিকমাহ” বলে।
  • জ্ঞান না থেনেও কুরআন-হাদিস ব্যাখ্যা করা যায়।
  • বিয়ের আগে “পবিত্র প্রেম” করা যায়।
  • রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ মেনে চলা ঐচ্ছিক হয়ে যায়—চাইলে হবে, না চাইলে বাদ।

আল্লাহর সতর্কবাণী

ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ
“আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা অপছন্দ করেছে। ফলে আল্লাহ তাদের আমলগুলো বরবাদ করে দিবেন।” (সুরা মুহাম্মদ ৪৭:৯)

একটি ভালো কাজের প্রতিদান না পাওয়া কষ্টদায়ক; কিন্তু যদি সমস্ত ভাল কাজই বরবাদ হয়ে যায়—তাতে কিভাবে বাঁচবে আমাদের অনুভব?

ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন: “আপনি এমন মানুষ পাবেন, যারা ভুলকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য অজুহাত খোঁজে আর তর্ক করে। কিন্তু তাদের অন্তরের গভীরে তারা নিজেরাই জানে—তারা ভুল করছে।”

— ইবনে তাইমিয়া (রহ.)

সময় প্রায় ফুরিয়ে এলো…
👉 আপনি আসলে কাকে ধোঁকা দিচ্ছেন?

Ofde islam
Shihab Ahmed Tuhin
Guest Writer | বাংলাদেশ
...............................................

Post a Comment

0Comments

Thanks everyday

Post a Comment (0)
To Top