পৃথিবী তাকিয়ে আছে তোমার দিকে হে অরুণ! হে তরুণ!
স্বপ্ন, চিন্তা ও মানুষের দায়
আল্লাহ্ মানুষকে যে অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম এক মহান নিয়ামত হলো—চিন্তা করার ক্ষমতা। মানুষ শুধু চিন্তা করতে পারে তা নয়, সে সুন্দর চিন্তা করতে পারে; ভাবতে পারে নিজের অস্তিত্ব, দায়িত্ব এবং জীবনের অর্থ নিয়ে। এই চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় স্বপ্ন—কখনো নীরব, কখনো সাহসী, আবার কখনো সময়ের চেয়েও বড়।
মানুষের স্বপ্ন কেবল তার নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রকৃত স্বপ্ন সেই, যা নিজের সীমানা অতিক্রম করে চারপাশের মানুষ, সমাজ এবং সমগ্র মানবতার কল্যাণের দিকে প্রসারিত হয়। ইতিহাসের পাতায় আমরা এমন বহু মানুষের নাম খুঁজে পাই, যারা নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে তুচ্ছ করে মানবতার জন্য স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে তাঁরা ত্যাগ করেছেন শান্তি, সময়, এমনকি জীবনের নিরাপত্তাও।
আজ আমরা পৃথিবীতে যে কল্যাণকর পরিবর্তনগুলো দেখতে পাই—শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিকতা কিংবা সভ্যতার যেসব পথ আমাদের সামনে খোলা—সেগুলো হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এগুলো অতীতের সেই আলোকিত মানুষগুলোর গভীর চিন্তা, দূরদর্শী ভাবনা এবং নিরলস সাধনার ফল। তাঁদের স্বপ্নই আমাদের জন্য পথ হয়েছে, তাঁদের ত্যাগই আমাদের জন্য পাথেয় হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ধারাবাহিকতা কি এখানেই থেমে যাবে?
আজ পৃথিবী নীরবে তাকিয়ে আছে বর্তমান প্রজন্মের দিকে—তোমার দিকে, হে তরুণ। পৃথিবী জানতে চায়, তুমি কী স্বপ্ন দেখছ? তুমি কি শুধু নিজের সাফল্যের গল্প লিখতে ব্যস্ত, নাকি মানুষের জন্যও কিছু ভাবছ?
পৃথিবীর প্রত্যাশা খুব জটিল নয়। সে চায়, তুমি স্বপ্ন দেখো—নিজের জন্য, মানুষের জন্য এবং মানবতার জন্য। সে চায়, তুমি তোমার স্বপ্নকে শুধু কল্পনায় সীমাবদ্ধ না রেখে সাধনার আলোয় বাস্তব রূপ দাও। আগামী প্রজন্ম যেন অন্ধকারে পথ খুঁজে না ফেরে, সেই জন্য তুমি আজ কিছু আলো জ্বালো।
মানুষ চলে যায়, কিন্তু রেখে যায় তার চিন্তার ছাপ। তুমি যদি মানুষের জন্য কিছু পথ তৈরি করতে পারো, রেখে যেতে পারো সুন্দর কিছু পাথেয়—তবে সেটাই হবে তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তোমার হৃদয় যদি চিরন্তন আলোর আভায় উদ্ভাসিত হয়, তোমার কলম যদি সত্য ও কল্যাণের পক্ষে কথা বলে—তাহলেই তোমার অস্তিত্ব এই পৃথিবীতে অর্থবহ হয়ে উঠবে।
স্বপ্ন যেন শুধু ঘুমের ভেতর জন্ম না নেয়, স্বপ্ন যেন জীবনের সাথে চলতে শেখে। জীবনের স্বপ্ন আর স্বপ্নের জীবন—এই দুইয়ের মিলনেই জন্ম নেয় আলোকিত মানুষ। আর সেই আলোকিত মানুষই একদিন পৃথিবীর অন্ধকারে আলোর দিশা হয়ে ওঠে।


Thanks everyday